রাঙ্গিরখাল ও সিঙ্গিরখালের অর্ধেকের উপর জমি বেদখল Skip to main content

রাঙ্গিরখাল ও সিঙ্গিরখালের অর্ধেকের উপর জমি বেদখল

রাঙ্গিরখাল ও সিঙ্গিরখালের অর্ধেকের উপর জমি বেদখল

Rangirakhala o singirakhalera ardhekera upara jami bedakhala

 Silchar News paper

 ১৪ জুন : ফি বছর বর্ষা আসলেই শিলচর শহর জুড়ে বীভৎস রূপ ধারণ করে নর্দমার গা শিরশিরে কালাে জলে । নালানর্দমা খাল - বিল সাধারণ দু ’ পশলা বৃষ্টিতেই জল উপচে পড়ে । শহর শিলচর জুড়ে নর্দমাক্ত কাদা জলে একাকার , সাধারণ জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে । | শিলচর শহরের জল নিষ্কাশন অর্থাৎ সম্পূর্ণ অর্থে মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেম ' না হওয়া পর্যন্ত কোনও অবস্থায় কৃত্রিম বন্যা আটকানাে যাবে না । | দ্বিতীয়ত : নালা ও খালগুলির জবরদখল পুরােপুরিভাবে বন্ধ করতে হবে । জদখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে হবে । যাতে করে খাল ও নালাগুলির মধ্যে দিয়ে জল নিষ্কাশিত হতে পারে । | তৃতীয়ত : অত্যধিক পরিমাণে প্লাস্টিক , থার্মোকল ব্যবহার ও তা নর্দমায় ছুড়ে ফেলায় জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অর্থে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে । যার দরু নালা নর্দমা - খাল - বিল দিয়ে সহজে নিষ্কাশিত জল বয়ে যেতে পারে না । শহরের প্রধান বড় নালা , খাল ও বিলগুলির বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রান্তজ্যোতির এই বিশেষ প্রতিবেদন । – শহরের রাঙ্গিরখাল অর্ধেকের উপর বেদখল । দীর্ঘদিন থেকে বেদখলকারীরা খালটিকে কয়েক কিলােমিটার জুড়ে এমনভাবে দখল করে রেখেছে যে অনেক জায়গাতে খালটির প্রস্থ অর্ধেকের থেকেও কমে গেছে । এই সেই রাঙ্গিরখাল যা এক সময় শহরের শেষ দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থান ছিল । খালটির অবস্থান পাল্টায়নি কিন্তু শহর বেড়েছে তরতরিয়ে । তাই শেষ দক্ষিণ প্রান্তের এই খালের পরও শহর বেড়ে এগিয়েছে অনেক দূর । আজ শহর মেডিক্যাল কলেজ , ঘুংঘুর অব্দি জুড়ে আছে । যার দরুন , রাঙ্গিরখাল ও সিঙ্গিরখাল দুটোর উপর চাপ বেড়েছে অনেক ।

নিষ্কাশিত জল টেনে বহে নেওয়ার জন্য যতটুকু গভীরতা ও প্রশস্ততা চাই তা নেই বললেই চলে দুটো খালের ক্ষেত্রেই । 

যেমন বৃহত্তর দক্ষিণ বিলপার এলাকার একটি প্রান্তের নিষ্কাশিত জল বহে নিয়ে যায় সিঙ্গিরখাল । অন্যদিকে , পশ্চিম ও দক্ষিণ বিল পারের বৃহত্তর অংশের জল পাবলিক হাইস্কুল রােড থেকে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদ চণ্ডীচরণ রােডের নালা হয়ে , শ্মশানের পিছন দিকের রাঙ্গিরখালে গিয়ে পড়ে । | কিন্তু হাল - বেহাল ছােট বড় নালাগুলাের । প্রত্যেকটি জল নিষ্কাশিত ‘ ড্রেনেজ সিস্টেম ’ মুখ থুবড়ে পড়েছে জবর দখলকারীদের চক্করে পড়ে । ঠিক একই অবস্থা সিঙ্গিরখালের । সমস্ত সােনাই রােড , বৃহত্তর কনকপুর , তদসংলগ্ন শিলচর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ১৪ , ১৫ , ১৬ , ১৭ , ১৮ , ১৯ , ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডগুলাের বাসিন্দাদের প্রত্যহ ব্যবহৃত - নিষ্কাশিত

জল বহন করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে একা সিঙ্গিরখাল । কিন্তু জায়গায় জায়গায় জবর দখলকারীরা সিঙ্গিরখালকে নিজেদের বাড়ির চতুর্সীমার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন । যার দরুন খালটির সিংহভাগই দখলদারদের হাতে । এই কারণেই , ক্রমশ ছােট হয়ে পড়ছে শহরের নর্দমা , খাল - বিলগুলি । | সিঙ্গিরখাল বৃহত্তর সােনাই রােডের নিষ্কাশিত জল বহন করে নিয়ে । রাঙ্গিরখাড়ি ও নেতাজি সুভাষ অ্যাভিনিউর পাশে থাকা শনি মন্দিরের পাশ দিয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে হয়ে শহর থেকে বেরিয়ে যায় । কিন্তু যেমন দুর্দশা সােনাই রােডে তার চেয়েও বড় অসহায় অবস্থা ন্যাশনাল হাইওয়েতে । জায়গায় - জায়গায় শহরের বাসিন্দারা সিঙ্গিরখালটিকে দখল করে নিয়েছে । সােনাই রােডে অবস্থিত হলিক্রস স্কুলের পিছন দিক থেকে শুরু হয় খালটির জবর - দখলের করুণ চিত্র । যে - যেমনভাবে পারে খালের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা নিয়ে নিয়েছেন নিজেদের দখলে । ন্যাশনাল হাইওয়ে

রাঙ্গিরখাল ও সিঙ্গিরখালের অর্ধেকের

অর্থাৎ চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে খালটি যেই না প্রবেশ করেছে তেমনি খালের জমি জবরদখল হয়েছে চোখ বন্ধ করে । কোনও নিয়ম - নীতির তােয়াক্কা না করেই চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া সিঙ্গিরখালটিকে যে যেমনভাবে পারে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে যাচ্ছেন । অনেকে তাে আবার কালভার্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালটির অধিকাংশ জায়গা বাঁশের বেড়া দিয়ে নিজেদের জমির মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়েছেন । কেউবা , দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছে । মাটি ফেলে ভরাট করে দিয়েছেন খালটির অধিকাংশ জায়গা । অনেকে তাে আবার এক কদম এগিয়ে কংক্রিটের দেওয়াল উঠিয়ে ফেলেছেন । তাই , সাধারণ কারণেই জলের গতি আটকে যায় বারে বারে , স্থানে - স্থানে । ফলস্বরূপ , চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউবাসীদের এত কৃত্রিম বন্যার মুখ দেখতে হয় প্রত্যেকটি বছর । | একই অবস্থা শহরের সুভাষনগর - কলেজ রােডের মুখটায় । সেখানে রাস্তার পাশ দিয়ে প্রবাহমান খালটির 

রাঙ্গিরখাল ও সিঙ্গিরখালের অর্ধেকের

অর্ধেকেরও বেশি জায়গার উপর সারিবদ্ধভাবে দোকান ঘর খুলে রাখা হয়েছে । মনমােহন মজুমদার বালিকা বিদ্যালয় থেকে শুরু করে নিরঞ্জন পাল হাইস্কুলের । মুখগুলােতে প্রায় ৫০টিরও বেশি দোকান ঘর খােলা রাখা । কিন্তু , প্রশ্ন সেই একই , জল যাবে কোন দিক দিয়ে । খালটির জল চলাচল ব্যাহত হচ্ছে । যার দরুন , হালকা বর্ষাতেও বৃহত্তর সুভাষনগর এলাকার বাসিন্দাদের কৃত্রিম বন্যার মুখ দেখতে হয় । | নিউ শিলচরের প্রায় একশাে শতাংশ নিষ্কাশিত জল বহন করে নিয়ে যায় মূলত এই দুটি খাল । কিন্তু দুটি খালের দুই পাশ জুড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি , দোকানপাট খাল । দুটির জমির উপর অবৈধভাবে নির্মিত । যার দরুন , বাধা পাচ্ছে সম্পূর্ণ ড্রেনেজ সিস্টেম । অন্যদিকে , শহর জুড়ে যত্রতত্র দৈনন্দিন ব্যবহৃত প্লাস্টিক আবর্জনা যেমন , প্লাস্টিকের প্যাকেট , ক্যারি ব্যাগ , জলের বােতল , ঠাণ্ডা পানীয় বােতল সঙ্গে থার্মোকল ও পলিথিনের অন্যান্য ব্যবহৃত সামগ্রীসমুহ ফেলা হচ্ছে দিনভর । আর সেই প্লাস্টিক আবর্জনার শেষ স্থান হচ্ছে এই দুটি খাল । খাল দুটির মধ্যে পাকার হয়ে জমা পড়ে থাকতে দেখা যায় বিশাল সংখ্যক প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহৃত সামগ্রী । কিন্তু কোনও হেলদোল নেই , যেমন প্রশাসন ও শিলচর পুরসভার । ঠিক তেমনি সাধারণ মানুষও কোনও সদর্থক ভূমিকা নিতে পারছেন না । | শুধু তাই নয় , শিলচর পুরসভা ও অন্যান্য সরকারি দফতর ঠিক বর্ষার দিনগুলােতেই যেন কাজ করার সময় খুঁজে পায় । যার দরুন শহর জুড়ে কালাে । নর্দমার জল থৈ - থৈ করতে থাকে রাস্তার মধ্যে । শহরের প্রত্যেকটি বড় - মাঝারি ছােট নর্দমা , খাল , বিল ও অন্যান্য জলাশয়ের খননকার্য ও গভীরতা বাড়ানাে কাজ । অবশ্যই বর্ষায় নয় শীত মরশুমেই শেষ করতে হবে । খননের সঙ্গে গভীরতা । বাড়ানাের কাজ শুধু লােক দেখানাে নয় সত্যিকার অর্থে মনযােগ সহকারে তে । হবে । এতেই আংশিক সমস্যার সমাধান দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল । | নিউ শিলচর এলাকাতে যদিও কিছুটা জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে । নিউ শিলচরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার মধ্যে এখন অবদি এই দুটি খালই পুরােদস্তুর । সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে । কিন্তু পুরনাে বৃহত্তর মালুগ্রাম ও তারাপুর এলাকা জুড়ে ‘ ড্রেনেজ সিস্টেম ’ - এর হাহাকার অবস্থা । বৃহত্তর তারাপুর পুর এলাকায় ড্রেনেজ সিস্টেম নেই বললেই চলে । প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেবের বাড়ির পাশ দিয়ে চলে । যাওয়া তারাপুরের প্রধান সড়কটির অবস্থা আরও করুণ । সড়কের দুই পাশে নেই । কোনও জল নিষ্কাশনের সুচারু ব্যবস্থা । বর্ষা আসলেই তারাপুরের প্রধান সড়কে । কর্দমাক্ত ও নর্দমার জলের উপর দিয়ে হাঁটা - চলাফেরা করতে হয় শহরবাসীকে । দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থেকে সুস্মিতা দেব এবং তার পরিবারের ক্ষমতাশালী । নেতারা নিজেদের বাড়ির সামনের রাস্তাগুলাের জল নিষ্কাশনের সার্থক রূপ দিতে । ব্যর্থ । একইভাবে , গত তিন বছর ধরে বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় । কিন্তু শহরবাসীকে নর্দমার জলের মধ্যেই হাঁটা চলাফেরা করতে হচ্ছে , তা অত্যন্ত দুঃখজনক । শিলচর পুরসভা ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত , পাশাপাশি রাজ্য । ও কেন্দ্রে তাদেরই সরকার । তাই শহরবাসীর আশা - প্রত্যাশা ভারতীয় জনতা । পার্টির উপর অনেক - অনেক বেশি । কিন্তু যেভাবে প্রায় চারটি বছর ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত শিলচর পুরসভা সুখ নিদ্রায় কাটিয়ে দিল তা অত্যন্ত দুঃখের বলে শহরবাসীর মনে করছেন । | জল নিষ্কাশনের এই মূল সমস্যাগুলি বিবেচনা করে প্রশাসন ও শিলচর । পুরসভা যৌথভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারলেই শিলচর শহরবাসী কর্দমাক্ত , নর্দমার জলের হাত থেকে রেহাই পাবে , রেহাই পাবে কৃত্রিম বন্যা থেকে বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা । নতুবা , বর্ষা আসলেই তড়িঘড়ি করে কিছু কাজ করলে যে কোন ফল পাওয়া যাবে না তা হলঃ করে বলা যায় ।

Comments