শালচাপড়ার মৎস্যজীবী বিজেপি কর্মী খুন মৃতদেহ মিলল বিলে , সন্ধানহীন দুই সঙ্গী Skip to main content

শালচাপড়ার মৎস্যজীবী বিজেপি কর্মী খুন মৃতদেহ মিলল বিলে , সন্ধানহীন দুই সঙ্গী


শালচাপড়ার মৎস্যজীবী বিজেপি কর্মী খুন মৃতদেহ মিলল বিলে , সন্ধানহীন দুই সঙ্গী

বিল থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের পর । ( ডানে ) জীবদ্দশায় বিজেপির সভায় দলের কর্মী রহিম উদ্দিন 


 গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে হাজির অন্য দুজন , উত্তেজনা 

শিলচর , ১৭ জুন : খুন হলেন শালচাপড়া গ্রান্ট এলাকার বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ( ৫৩ ) নামে এ ব্যক্তি । সােমবার | সকালে বাড়ি থেকে প্রায় দেড় | কিলােমিটার দূরবর্তী খাড়ুয়ালা বিল থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ । | রহিম উদ্দিন খুন হওয়ার পাশাপাশি | সন্ধান মিলছেনা সামসুল এবং কুটি নামের তার দুই প্রতিবেশীর । এদের পাশাপাশি খাড়ুয়ালা বিল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা দুই ভাই শ্রীকান্ত দাস ও শ্রীরাম দাস বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় শিলচর মেডিক্যাল

কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । অনুমান করা হচ্ছে , মাছ ধরাকে ঘিরে রহিম উদ্দিনদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছিল । শ্রীকান্তদের । এর জেরেই ঘটে যায় এই হত্যাকাণ্ড । পেশায় মৎস্যজীবী । হত রহিম উদ্দিন ছিলেন বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী । ঘটনাকে ঘিরে শালচাপড়া সহ সংলগ্ন আলগাপুরের বৃহত্তর বিল এলাকায় বিরাজ করছে । তীব্র উত্তেজনা । শালচাপড়া গ্রান্টের পাশেই রয়েছে খাড়ুয়ালা সহ বিস্তীর্ণ বিল এলাকা । শালচাপড়া গ্রান্ট পড়েছে ।


শালচাপড়ার মৎস্যজীবী বিজেপি



কাছাড়ের বড়খলা বিধানসভা এলাকার একেবারে শেষভাগে । এরপর থেকেই শুরু হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুরের বিল এলাকা । বিস্তীর্ণ ওই এলাকায় । রয়েছে বেশকিছু বিল । বিধানসভা আসন ভিত্তিক শালচাপড়া গ্রান্ট ও বিল । এলাকা যথাক্রমে বড়খলা ও আলগাপুরে পড়লেও থানা ভিত্তিক দুটি এলাকাই পড়েছে শিলচরের অধীনে । বিলে মাছ ধরাকে ঘিরে দুই এলাকার বাসিন্দাদের বিবাদ বেশ পুরনাে , এনিয়ে বিগত দিনে ঘটে গেছে একাধিক সংঘর্ষও । রহিম উদ্দিনের দুই ভাই আব্দুল খালিক ও খলিলুর রহমান জানিয়েছেন খাডুয়াল বিল এলাকায় তাদেরও জমি রয়েছে । অন্যান্য দিনের মতাে রবিবার রাতেও রহিম উদ্দিন ওই এলাকায় মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান , সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশী সামসুল এবং কুটি । অন্যান্য দিন তারা । রাতভর মাছ ধরার পর সেসব বিক্রি করে বাড়ি ফিরে আসেন সকাল ৮ টার মধ্যে । কিন্তু রবিবার রাতে বেরিয়ে যাওয়ার পর সােমবার সকালে তারা অনেকক্ষণ না ফেরায় শুরু হয় খোঁজখবর । এরমধ্যে খবর আসে খায়ালা বিলে পড়ে রয়েছে একটি মৃতদেহ । এই খবর পেয়ে তারা দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখেন মৃত ব্যক্তি রহিম উদ্দিন - ই । তাঁর মাথা সহ শরীরের অন্যান্য অংশে দেখা যায় আঘাতের চিহ্ন । রহিম উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া

গেলেও সন্ধান মেলেনি সামসুল এবং কুটির ।


এদিকে , সােমবার রহিম উদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধারের আগে রবিবার রাতে খাডুয়ালা বিল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা দুই ভাই শ্রীকান্ত দাস ও শ্রীরাম দাস রক্তাক্ত দেহে পেছিন শ্রীকোণা পলিশ ফাড়িতে । তারা পুলিশকে যে জবানবন্দি দেন সে অনুযায়ী রাতে দু ’ জন মিলে বিল পাহারা দিচ্ছিলেন । তখন শালচাপড়া গ্রান্টের দিক থেকে কিছু লােক জাল নিয়ে চুরি করে মাছ ধরতে যায় । আপত্তি জানালে ওই লােকরা তাদের উপর আক্রমণ চালায় । কোনওক্রমে প্রাণ নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছেন তারা । শ্রীকান্ত ও শ্ররািমের । শারীরিক হল দেখে পুলিশ তাদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে । বর্তমানে দুই ভাই মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন । হত রহিম উদ্দিনের ভাইদের সন্দেহ শ্রীকান্ত এবং শ্রীরামদের হাতেই খুন হয়েছেন তাদের ভাই । এলাকার জিপি সভাপতি তাজমিনা বেগমের প্রতিনিধি সাইবুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা জানান , রহিমের সঙ্গে মাছ ধরতে যাওয়া সামসুল এবং কটির এ পর্যন্ত সন্ধান না মেলায় তারা এই দু ’ জনকে নিয়েও আশঙ্কায় ভুগছেন । যদিও অসমর্থিত এক সূত্রে খবর অনুযায়ী , এদিন । | সকালে নাকি কুটিকে একনফা দেখা গিয়েছিল এলাকায় । এলাকাবাসী আরও জানান - পাশের বিস্তীর্ণ বিল এলাকায় রয়েছে তাপাং বিল । সরকারি খাতায় যার নাম সুমেরি বেরি - ডুবেরি বিল ( নম্বর ১৯৩৩ ) । সরকারি ওই বিলের পাশাপাশি জমি রয়েছে রহিম উদ্দিনের মতাে । আরও অনেকের । সুমেরি - লুবেরি - ডুবেরি ’ বিল কেউ লিজ নিলেও ওই এলাকার কিছু লােক মাছ ধরতে বাধা দেন । এনিয়ে বছর কয়েক আগে ঘটে যায় বড় ধরনের সংঘর্ষ এরপরও পরিস্থিতি মােটেই শােধরায়নি । শালচাপড়া গ্রান্টের যানের জমি বয়েছে সেখানে , তারা মাছ ধরতে গেলেও প্রায়ই তাদের । মারধর করা হয় । গতকাল রাতে একইভাবে রহিম উদ্দিনদের উপর আক্রমণ চালানাে হয় বলে তাদের সন্দেহ । 

এসকালে বিল থেকে রহিম উদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ।


ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে । ময়নাতদন্তের র পুলিশি প্রহরায় মৃতদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়িতে । হত রহিম উদ্দিনের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা ও পত্নী সহ তিন সন্তান , অন্য এক মেয়ের । ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে । তার ভাইয়েরা একই বাড়িতে থাকেন । পৃথকভাবে । পরিবার চলত রহিম উদ্দিনের আয়েই , তার এভাবে মৃত্যু ঘটায় । পরিবারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে । ঘটনা নিয়ে সদর থানার ওসি ডিতমণি গোস্বামীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন , এই মুহুর্তে পরাে চিত্র । গবিমাব হয়নি । তদন্ত প্রক্রিয়ার পরই এলিয়ে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে ।



Comments